আ্যাকশন মুভি হলো এমন এক ধরনের মুভি যার কদর সব ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই রয়েছে। হলিউড বলেন কিংবা ঢালিউড সব ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই আ্যাকশন মুভির কোনো কমতি নেই। তবে মনে দাগ কাটার মতো আ্যাকশন মুভি কালেভদ্রেই আসে। হলিউডের কথা তুললে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মুভির মধ্যে নাম আসবে টম হার্ডি অভিনীত ম্যাড ম্যাক্স:ফিউরি রোড অথবা কিয়ানু রিভস অভিনীত জন উইক মুভিটির কথা।

এসব মুভির সফলতার কারণে সকলেই এখন চাচ্ছেন ভালো কিছু আ্যাকশন সিকোয়েন্স সমৃদ্ধ মুভি বানাতে। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে আমরা দেখতে পাই জনপ্রিয় অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিস নেটফ্লিক্সের তৈরি মুভি পোলার। টিভি সিরিজ হ্যানিবল খ্যাত অভিনেতা ম্যাডস মিকেলসেনকে মুভিটিতে দেখানো হয়েছে দুর্ধর্ষ হিটম্যান হিসেবে। চলুন জেনে আসা যাক পোলার সম্পর্কে।

কাহিনী সংক্ষেপ

পোলার মুভিতে দেখানো হয়েছে ভয়ংকর সব হিটম্যানদের এক গুপ্ত সংস্থা। এ সংস্থার মালিক ব্লুটকে দেখা যায়, প্রচুর ঋণের বোঝা রয়েছে তার উপর। তবে দেনা পাওনা পরিশোধের এক অভিনব কৌশল বের করেছেন তিনি। তার কোম্পানি পলিসি অনুযায়ী, প্রত্যেক হিটম্যান ৫০ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করবেন এবং অবসরের সময় কোম্পানি পেনশন হিসেবে মোটা অংকের টাকা দিবে। তবে যদি কোনো অজ্ঞাত কারণে অবসরপ্রাপ্ত সেই হিটম্যান মারা যান তবে তার সকল টাকা পুনরায় কোম্পানির কাছে ফেরত আসবে।

পোলার মুভিতে ক্যাথেরিন উইনিক; Source: imdb.com

এ ব্যাপারটি কাজে লাগিয়েই ব্লুট তার তরুণ হিটম্যানদের সহায়তায় একে একে সব রিটায়ার্ড হিটম্যানদের মেরে ফেলতে থাকে। তবে বিধিবাম, এরই মধ্যে অবসর নেওয়ার সময় আসে তাদের সেরা হিটম্যানের। ডানকান ভিজলা ওরফে ব্ল্যাক কাইজার (Black Kaiser) সবচেয়ে ভয়ংকর হিটম্যানদের একজন। ঠান্ডা মাথার খুনি ব্ল্যাক কাইজারের নিশানা যেমন অব্যর্থ তেমনি পরিচিতদের নিকট সে অত্যন্ত ভয়ংকর। সকলে তাকে সমীহ করে চলে এবং তাকে রীতিমতো ভয় পায়।

ব্লুটের ভাড়াটে খুনিরা; Source: theguardian.com

অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা ডানকান ভিজলা তাই যখন এ জীবন থেকে দূরে গিয়ে শান্তিতে বাকি জীবন কাটাতে চায় তখন তা বাকিদের অনেকটা অবাকই করে। তবে এ অবসর গ্রহণই যেন শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রৌঢ় ব্ল্যাক কাইজার শেষ পর্যন্ত এ বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারে নাকি সে উল্টো তার শত্রুদের জন্যই বিপদ হয়ে দাঁড়ায় তা জানতে হলে আপনাদের দেখতে হবে সম্পূর্ণ মুভিটি।

পরিচালনা এবং চিত্রনাট্য

পোলার মুভিটি পরিচালনা করেছেন সুইডিশ পরিচালক জোনাস একারল্যান্ড। পরিচালক হিসেবে তার বড় মাপের কাজ বলতে এ মুভিটিই প্রথম। তিনি মিউজিক ভিডিও বানানোর জন্যই অধিক পরিচিত। পপ কুইন ম্যাডোনার মিউজিক ভিডিও বানিয়ে গ্র্যামি আ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন এ পরিচালক। তবে মুভি বানানোর ব্যাপারে তার অনভিজ্ঞতা বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে এ মুভিতে।

মুভিতে বেশ কিছু ব্যাপার অনেকটা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। বিশেষ করে আ্যাকশন মুভি হওয়া স্বত্তেও মুভিতে পরিচালক অদ্ভুত সব পোশাক এবং কালার কম্বিনেশন ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে প্রধান ভিলেন ব্লুটের চেহারা এবং উপস্থিতি এক কথায় হাস্যকর। ভয়ংকর ভিলেন তো মনেই হবে না বরং কার্টুন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়া বেশ কিছু পার্শ্ব চরিত্রের কিম্ভুতকিমাকার উপস্থিতি যথেষ্ট বিরক্তির উদ্রেক করে।

পোলার কমিকস; Source: polarcomics.com

চিত্রনাট্যের ব্যাপারেও রয়েছে কিছুটা দুর্বলতা। পোলার মুভিটি একটি অনলাইন কমিকস সিরিজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো হয়েছে। তবে চিত্রনাট্যকারের নিজস্বতা এ মুভির ক্ষেত্রে অনেকাংশে কম। হলিউড সিনেমার দর্শকরা হিটম্যান, জন উইকের মতো মুভিগুলোতে ইতোমধ্যে এ ধরনের গল্প দেখে অভ্যস্ত। তাই মুভিটিতে নতুনত্ব অনেকাংশে কম বলা যায়।

পোলার মুভিতে ড্যানিশ অভিনেতা ম্যাডস মিকেলসেন; Source: bestnetflixshows.com

তবে মুভিটির কয়েকটি অসাধারণ দিকও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুভিটির আ্যাকশন দৃশ্যগুলো। কেউ যদি গল্প এবং যুক্তি, বাস্তবতার মতো বিষয়গুলো মাথায় না এনে শুধুমাত্র আ্যাকশন উপভোগ করতে চান তবে তার জন্য এ মুভিটিতে রয়েছে অনেক নান্দনিক দৃশ্য। মুভিতে সহিংসতার পরিমাণ অনেক বেশি এবং বেশ খোলামেলা নগ্নতার দৃশ্য রয়েছে। তাই যারা এ ধরনের দৃশ্য পছন্দ করেন না তাদের ভালো নাও লাগতে পারে। তাই মুভিটিকে রেটেড আর’ মুভি এছাড়া মুভিটির শেষের দিকে কিছু টুইস্টও রয়েছে যা আপনাকে অবাক করতে বাধ্য করবে।

অভিনয় এবং রেটিং

পোলার মুভিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ড্যানিশ অভিনেতা ম্যাডস মিকেলসেন। ইতোপূর্বে টিভি সিরিজ হ্যানিবলে মূল চরিত্র সিরিয়াল কিলার হ্যানিবল লেক্টার এবং ডক্টর স্ট্রেঞ্জ মুভিতে ভিলেন কাইসিলিয়াস চরিত্রে অভিনয় করা মিকেলসেনকে দর্শকরা খল চরিত্রে দেখেই বেশি অভ্যস্ত। তাই পোলার মুভিতে দুর্ধর্ষ খুনী হিসেবে তাকে যথেষ্ট মানানসই লেগেছে। এছাড়া ধারালো চেহারার বিশালদেহী মিকেলসেন যে ব্ল্যাক কাইজার চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত কাস্টিং ছিল তা মুভিতে তার অভিনয় এবং আ্যাকশন দৃশ্যগুলো দেখেই বোঝা গিয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে পোলার মুভির প্রাণই ছিলেন মিকেলসেন।

পোলার মুভির একটি দৃশ্য; Source: variety.com

মুভিটিতে এর পাশাপাশি আরো আছেন আমেরিকান গায়িকা এবং অভিনেত্রী ভেনেসা হাজেনস (Vanessa Hudgens)। আরো রয়েছেন ভাইকিংস টিভি সিরিজের ল্যাগার্থা চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রী ক্যাথেরিন উইনিক। উভয়ই নিজ চরিত্রে বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। এর বাইরে কারো অভিনয় তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

পোলার মুভিতে মিকেলসেন এবং ভ্যানেসা হ্যাজেনস; Source: variety.com

পোলার মুভিটির রেটিং অনেকটা মাঝারি মানের বলা যায়। মুভিটির আইএমডিবি রেটিং ৬.৩ এবং রটেন টমেটোতে মুভিটি মাত্র ২২ শতাংশ ফ্রেশ। মুভিটির পরিচালনা, চিত্রনাট্যের দুর্বলতা এবং নিজস্বতার অভাবই এ সাদামাটা রেটিংয়ের মূল কারণ বলে ধারণা করা যায়।

যে কারণে মুভিটি দেখবেন

পোলার মুভিটি দেখার প্রধান এবং একমাত্র কারণ ম্যাডস মিকেলসেন। এই বয়সে এসে আ্যাকশন হিরো চরিত্রে তিনি যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তা চোখে পড়ার মতো ভালো। এছাড়া মুভিটির আ্যাকশন সিকোয়েন্স আপনাকে জন উইক মুভিটির কথা মনে করিয়ে দিবে। যদিও মুভিটির আরো উন্নতি করার সুযোগ ছিল কিন্তু ভালো ফাইট সিন একটি ভালো আ্যাকশন সিনেমার প্রধান অংশ। পোলার মুভিটিতে যার কোনো দিক থেকেই কমতি নেই।

Related Article

0 Comments

Leave a Comment