মুভি ক্যাটাগরি হিসেবে যুদ্ধের মুভি এবং হরর মুভি উভয়ই অনেক জনপ্রিয়। এখন প্রর্যন্ত উভয় ক্যাটাগরির প্রত্যেকটিতেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য মুভি। আর যদি আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা, তবে হলিউডে এ সংক্রান্ত প্রচুর মুভি পাওয়া যাবে। তবে কোনো মুভি যদি এ সবকিছুর সংমিশ্রণ হয় তবে তা কেমন হতে পারে তার একটি গল্প নিয়েই এসেছে ওভারলর্ড মুভিটি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তিপ্রাপ্ত মুভি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক মিশন অপারেশন ওভারলর্ডের নামানুসারে রাখা হয়েছে। চলুন জেনে আসা যাক এ মুভিটির ব্যাপারে।

কাহিনী সংক্ষেপ

ডি-ডে (D-Day) নামে অধিক পরিচিত অপারেশন ওভারলর্ড এ যাবতকাল পর্যন্ত নৌপথে ঘটে যাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামলা। ১৯৪৪ সালের ৬ জুন ফ্রান্সের নর্মান্ডিতে হওয়া এ হামলায় পশ্চিমারা জার্মানদের প্রথম গুরুতর আঘাত হানে। এ দিনের ঘটনা দিয়েই শুরু হয় ওভারলর্ড মুভিটি।

ডি-ডের দ্বারপ্রান্তে প্যারাট্রুপার বাহিনী; Source: slashfilm.com

সার্জেন্ট রেনসিন এবং তার প্যারাট্রুপার স্কোয়াডের দায়িত্ব থাকে একটি জার্মান রেডিও টাওয়ার বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার। তবে নির্ধারিত স্থানে অবতরণের পূর্বেই শত্রুপক্ষ তাদের হামলা করে বসে। ফলে স্কোয়াডের অধিকাংশ সদস্যই মারা যায়। টাওয়ার উড়িয়ে দেওয়ার মিশন পূরণ করার জন্য বেঁচে থাকে শুধু ইতোমধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত কর্পোরাল ফোর্ড, আর ৪ নবীন সৈনিক বয়েস, তিব্বত, চেস এবং ডসন।

ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যাও কমতে থাকে, তবে কর্পোরাল ফোর্ডের চাপে তারা মিশন পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তারা পার্শ্ববর্তী এক গ্রামের একটি মেয়ের সহায়তায় তার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তবে ক্লোয়ি নামক যে মেয়েটির বাসায় তারা আশ্রয় নেয় সেখানে দেখা যায় তার ফুপু কোনো এক ভয়াবহ অসুখে আক্রান্ত। তার আর্তনাদ যেন ইতোমধ্যে ঘাবড়ে যাওয়া সৈনিকদের আরো ভয় পাইয়ে দেয়।

ক্লোয়ি চরিত্রে অভিনেত্রী মাথিল্ডা অলিভার; Source: ign.com

এরই মধ্যে বয়েস রেডিও সেন্টারের সন্ধানে বের হয় এবং ভুলক্রমে এক লাশবাহী গাড়িতে করে এক অজানা স্থানে চলে যায়। তবে সেখানে গিয়ে অনেকটা কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসার মতো অবস্থা হয়। বয়েস আবিষ্কার করে বসেন জার্মান নাৎজিদের একটি পরীক্ষামূলক ল্যাব। কি এমন পরীক্ষা চলছিল সেই ল্যাবটিতে আর বয়েস ও তার অন্য সহযোদ্ধাদেরই বা কী হলো তা জানতে আপনাকে মুভিটি দেখতে হবে।

পরিচালনা এবং চিত্রনাট্য

ওভারলর্ড মুভিটি পরিচালনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক জুলিয়াস এভারি। এভারি ইতোপূর্বে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ না করলেও প্রথমবার হিসেবে বেশ ভালো করেছেন। বিশেষ করে মুভিটির মধ্যে পুরো সময় জুড়েই এক ধরনের ডার্ক টোন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন যা অনেক ভালো পরিচালককেও অনেক সময় পারতে দেখা যায় না। এছাড়া মুভিটির কাহিনী এক মুহূর্তের জন্যও ধীরগতির হয়নি। যার ফলে মুভিটি সকল দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

মুভিটির পর্দার পেছনের একটি দৃশ্য; Source: youtube.com

মুভিটির প্রযোজক হিসেবে আছেন জে. জে. আব্রামস। তিনি ইতোপূর্বে হরর মুভি ক্লোভারফিল্ডের পরিচালক হিসেবে ছিলেন। তবে এ কারণে ওভারলর্ড মুভিটি তৈরির সময়েও বেশ কিছু গুজবের উৎপত্তি হয়। অনেকে মনে করতে শুরু করেন ওভারলর্ড মুভিটি ক্লোভারফিল্ড মুভিটিরই একটি সিক্যুয়েল। তবে পরবর্তীতে ছবিটির নির্মাতারা এ ব্যাপারে সকল ভ্রান্তি দূর করেন।

চিত্রনাট্যের দিক দিয়ে এ মুভিটিতে বেশ খানিকটা ভিন্নতা রয়েছে। মুভিটিকে আমরা কিছুটা হররের কাতারে ফেললেও আসলে একে ঠিক হরর বলা যায় না। বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার খানিকটা কাল্পনিক রূপ হিসেবে আখ্যায়িত করলেই যেন বিষয়টা বেশি মানায়। ছবিটিতে যুদ্ধের অনিশ্চয়তা যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি রয়েছে ফ্রান্সের জনগণের উপর জার্মান নাৎসিদের চালানো নির্যাতনের বিভৎস দৃশ্য। আলাদা আলাদা ভাবে মুভিটির উপাদানগুলোকে লক্ষ্য করলে এদের খুব সাদামাটা মনে হলেও সবকিছুর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নির্মাতারা একটি সুন্দর উপভোগ্য মুভি উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন।

অভিনয় এবং রেটিং

ওভারলর্ড মুভিতে প্যারাট্রুপার প্রাইভেট এড বয়েস চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেতা জোভান এডেপো। ইতোপূর্বে তিনি ছোট পর্দায় ব্যস্ত সময় কাটালেও বড় পর্দায় তার আনাগোনা কখনোই খুব একটা দেখা যায়নি। তবে ওভারলর্ড মুভিতে তিনি ছিলেন নিজ চরিত্রে সাবলীল।

জোভান এডেপো; Source: quora.com

মুভিটির প্রধান খল চরিত্রে নাৎসি অফিসার হিসেবে অভিনয় করেছেন ড্যানিশ অভিনেতা পিলো এসবেক। মুভিটিতে তার চরিত্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মুভিটির অফিসিয়াল পোস্টারও তাকে কেন্দ্র করেই বানানো হয়েছে। তবে এ ধরনের চরিত্র তার জন্য নতুন নয়, বরং খল চরিত্রে অভিনয় করায় তার অনেকটা খ্যাতিই রয়েছে বলা যায়।

এসবেক ইতোমধ্যে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোন্সের অন্যতম প্রধান খলনায়ক ইউরন গ্রেজয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যারা সিরিজটিতে তার অভিনয় দেখেছেন তারা আশা করি অনুমান করতে পারছেন এ ধরনের চরিত্রে তিনি কতটা ভালো অভিনয় করতে পারবেন। আর ওভারলর্ড মুভিতে তিনি তার অভিনয়ের সেই মান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

পিলো এসবেক (ডানে); Source: youtube.com

সমালোচকদের রোষানলও ওভারলর্ড মুভিটি ভালোভাবে উতরে গিয়েছে। দর্শক সমালোচক উভয় ধরনের মানুষই মুভিটি কমবেশি পছন্দ করেছেন। মুভিটির আইএমডিবি রেটিং ৬.৮, রটেন টোমেটো ওয়েবসাইটটি এ মুভিটিকে ৮১ শতাংশ ফ্রেশ বলে আখ্যায়িত করেছে। মুভিটিকে আ্যপেলের আইটিউন্সে মুভিটিকে ফাইভ স্টারের মধ্যে ফোর স্টার দেওয়া হয়েছে।

যে কারণে মুভিটি দেখবেন

ওভারলর্ড মুভিটি সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য মুভি। সাধারণত যদ্ধের মুভি কিছুটা ধীরগতির হয় বলে অনেকে এ ধরনের মুভি এড়িয়ে চলেন। তবে এ মুভিটিকে কোনো দিক থেকে ধীরগতি তো বলাই যায়ই না বরং এতে যেমন দর্শকরা হরর ফ্লেভার পাবেন তার সাথে সাথে কিছু হালকা কমেডি দৃশ্যও রয়েছে। সব মিলিয়ে ওভারলর্ড মুভিটি একটি পরিপূর্ণ প্যাকেজ।

Related Article

0 Comments

Leave a Comment