আমরা ছেলেবেলা নিয়ে নস্টালজিক হই প্রায়ই, ফিরে যেতে চাই বারবার শৈশবে। আবার যখন বার্ধক্য আসে, ছেলেবেলার সাথে সাথে তারুণ্যের জন্যও আফসোস হয় আমাদের, আফসোস হয় অতীতে ফেলে আসা প্রতিটি মুহূর্তের জন্য। অতীতে ফিরতে চাওয়া বোধহয় মানব চরিত্রেরই ধর্ম।

তবে চাওয়া যতই তীব্র হোক, ফেরা হয় না কখনো, সে তো অসম্ভবই। সত্যিই কি অসম্ভব?

বিজ্ঞান কিন্তু বলছে গাণিতিকভাবে সম্ভব। বিজ্ঞানের বিরক্তিকর সমীকরণ বোঝাতে যাচ্ছি না, তাই আতঙ্কিত হওয়ারও কোন কারণ নেই। তবে এই সমীকরণের উপর ভিত্তি করে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীমূলক সিনেমা হয়েছে অনেকগুলো। আর এসব সিনেমার মধ্যে কোন কোনটি হয়তো সেই বইয়ে পড়া সমীকরণের মতোই একঘেয়ে, বিরক্তিকর। তবে কোন কোনটি আবার এতো বেশি মজার এবং আনন্দদায়ক যে কিভাবে আপনার সময় কেটে যাবে আপনি বুঝতেই পারবেন না। আর সাথে আপনার মস্তিষ্কে এমন এক আলোড়নও সৃষ্টি করবে হয়তো কোন কোনটা, যে ঘোর থেকে বেরুতেও বেশ সময় লেগে যেতে পারে আপনার।

হ্যাপি ডেথ ডে টু ইউ সিনেমার পোস্টার ; Image Source: stulovesfilm.com

হ্যাপি ডেথ ডে মুভি সিরিজটি এমনই একটি নির্মাণ। ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী মুক্তি পেয়েছে মুভির দ্বিতীয় সিক্যুয়েল হ্যাপি ডেথ ডে 2ইউ।

প্রথমে তিনটি মুভি নিয়ে ট্রিলোজি নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরিচালক তৃতীয় সিনেমার কাজ শুরু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যদি নেটফ্লিক্স এগিয়ে আসে, শুধুমাত্র সেক্ষেত্রেই তিনি তৃতীয় সিক্যুয়েলটি নির্মাণে হাত দিতে পারেন।

যেহেতু এটা নিতান্তই পরিচালক এবং নেটফ্লিক্সের ব্যাপার, আমরা সেদিকে মাথা না ঘামিয়ে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘হ্যাপি ডেথ ডে 2ইউ’ মুভির রিভিউ দেখে আসতে পারি।

কাহিনী সংক্ষেপ

কলেজের সায়েন্স জিনিয়াস রায়ান একদিন সকালে নিজের গাড়িতে ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে হাঁটতে রুমে ফিরে যায়৷ সেখানে রায়ানের রুমমেট কার্টার তার বান্ধবী ট্রি’র সাথে থাকায় সে তাদের ডর্ম ল্যাবে ফিরে যায়। ল্যাবে তার জন্যই অপেক্ষায় ছিল অন্য দুই গ্রুপমেট সমর এবং ড্রি যারা রায়ানের সাথে একই প্রজেক্ট তৈরীতে কাজ করছে। আর এসময়ই আসে কলেজ ডিন, রায়ানদের সায়েন্স প্রজেক্টকে ভৎসনা করে জানায়, প্রজেক্টের কারণে কলেজের বৈদ্যুতিক লাইনে চাপ পড়ে বেশ কয়েকবার পুরো কলেজের পাওয়ার সাপ্লাই অকেজো হয়ে গেছে। সন্ধা ছয়টার মধ্যে প্রজেক্টের সবকিছু বন্ধ করার নির্দেশ দিলে হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে সমর, ড্রি এবং রায়ান।

অভিনেতা অভীনেত্রীরা ; Image Source: justjared.com

ল্যাব থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেবিফেস পোশাক এবং মুখোশ পরা কারো হাতে খুন হয় রায়ান। আর তখনই তার ঘুম ভাঙ্গে, আবিষ্কার করে সে তার নিজের গাড়িতে। গাড়ি থেকে নেমে রুমে ফিরে গিয়ে দেখে রায়ানের রুমমেট কার্টার তার বান্ধবী ট্রি’র সাথে রুমে। ফলে সে রুম থেকে বের হয়ে ডর্মের ল্যাবের দিকে যায়।

কী? পরিচিত মনে হচ্ছে? ভাবছেন এসবই তো প্রথম থেকে পড়ে আসলাম, আবার কেন?

সিনেমার দৃশ্যে ট্রি ; Image Source: otakukart.com

নাহ, আপনি টাইম লুপে পড়ে যান নাই, লুপে পড়েছে রায়ান। কিভাবে এই লুপ থেকে বের হয় তা জানতে যখনই উৎকন্ঠিত হয়ে উঠবেন, তখনই দেখবেন, রায়ান না, প্রথম সিক্যুয়েলে দেখা ট্রি’ই আবার পড়েছে মৃত্যুর লুপে৷

১৮ আর ১৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার আর মঙ্গলবারের এই ধাঁধায় প্রথমে একটু মাথা গুলিয়ে গেলেও সামলে উঠার পর উপভোগ করবেন পুরোদমে, কিছুক্ষণ পর পরই এক একটা টুইস্ট ভড়কে দেবে দর্শককে।

অভিনয়

আগের সিক্যুয়ালের মতোই হ্যাপি ডেথ ডে টুইউ তেও মূল চরিত্র ট্রি গেল্বম্যানের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন জেসিকা রথি, তবে আগের মুভিতে যেমন তাকে একাই টেনে নিতে হয়েছে প্রায় পুরো মুভি, এখানে তেমন নয়। সেকেন্ড সিক্যুয়ালের এই মুভিটিতে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে কার্টার ডেভিস চরিত্রে অভিনয় করা ইসরায়েল ব্রুসাদেরও। তবে ট্রি চরিত্রে জেসিকা ছাড়িয়ে গেছেন হ্যাপি ডেথ ডে’র নিজেকেই, মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন প্রাণবন্ত অভিনয়ে।

পাঁচজনের দুর্দান্ত অভিনয় সিনেমাকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত ; Image Source: twoohsix.com

এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে জমিয়ে অভিনয় করেছেন সুরাজ শর্মা, স্টিভ জেসিস, রুবি মোদিন, ফি ভু, সারাহ ইয়ারকিন, র্যাচেল ম্যাথুস, চার্লস এইকিন, লোরা ক্লিফটন, মিসি ইয়েগার, জেসন বেইলি এবং সেলৈব স্পিলিইয়ার্ডস সহ আরো অনেকে।

সায়েন্স ফিকশন মুভিতে সাধারণত একটা অভিযোগ প্রায়ই দেখা যায়, অভিনয় রোবোটিক, হ্যাপি ডেথ ডে টুইউ মুভিটি এই অভিযোগ উতরে গেছে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। এক ঝাঁক উচ্ছল তরুণ তরুণীর দূর্দান্ত জীবনযাপনের অভিনয় আপনাকে দারুণ সময় উপহার দেবে তা বলাই যায়।

চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা

টাইম ট্রাভেল কিংবা টাইম লুপ, মোট কথা সময় নিয়ে তৈরী যে কোন সায়েন্স ফিকশন মুভি হলে প্রথমেই আমাদের মনে যেমন ক্রিস্টোফার নোলানের কথা মনে পড়ে, তেমনি ক্রিস্টোফার নামটা শুনলেও আমাদের প্রথমে নোলানের কথাই মনে পড়ে।

পরিচালক ক্রিস্টোফার ল্যান্ডন ; Image Source: Paramount Pictures

সায়েন্স ফিকশন মুভি , টাইম লুপ বেসড, ডিরেক্টরের নামের প্রথমাংশও ক্রিস্টোফার তবে শেষ অংশ নোলান নয়, ল্যান্ডন।

হ্যাপি ডেথ ডে টুইউ মুভির চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা করেছেন ক্রিস্টোফার ল্যান্ডন।

সিনেমাটোগ্রাফি

হ্যাপি ডেথ ডে টুইউ এর সিনেমাটোগ্রাফিতে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন টবি অলিভার।

মিউজিক

সিনেমাটির আবহসঙ্গীতের দায়িত্বে ছিলেন বিযার ম্যাককেয়ার্নি।

রেটিং

আইএমডিবি রেটিং – ৬.৩

মেটাক্রিটিক – ৫৭%

রোটেন টমেটো রেটিং – ৭০%

এ্যাওয়ার্ড

যেহেতু একদম নতুন মুভি , তাই এখনো তেমন কোন এ্যাওয়ার্ডের সুযোগ হয়নি মুভিটির সামনে তবে ইতিমধ্যে একটি এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনিত হয়েছে হ্যাপি ডেথ ডে টুইউ সিনেমাটি।

কিভাবে পাবেন সিনেমাটি

ক্রেজিএইচডি কিংবা অন্যান্য টরেন্ট সাইটগুলোতে পাওয়া যাবে হ্যাপি ডেথ ডে টু ইউ।

কেন দেখবেন সিনেমাটি

খেয়াল করলেই দেখা যাবে, অন্যান্য মুভি রিভিউ’র তুলনায় হ্যাপি ডেথ ডে 2ইউ এর রিভিউতে কাহিনী সংক্ষেপ করা হয়েছে আসলেই সংক্ষিপ্ত, আর কিছুটা অস্পষ্টও। কারণ বেশি বলে দেয়া মানেই স্পয়েল করে দেয়া। সিনেমাটি দেখতে বসে প্রতি মুহূর্তে চমকে যাওয়ার মজাটা নষ্ট করে দিতে চাইনি।

প্রথম পর্বে যেমন নিছকই এক ফ্যান্টাসি মনে হয়েছিল মুভিটিকে, দ্বিতীয় পর্বে তা কাটিয়ে কিছুটা সায়েন্টিফিক এক্সপ্লানেশন দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আর ট্রি যখন তার প্রেমিক এবং মা থেকে যে কোন একজনকে বেছে নেয়ার পরিস্থিতিতে পড়ে, পুরো মুভির কমেডিতে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়া আপনাকেও ছুঁয়ে দেবে এক গভীর আবেগ।

Related Article

No Related Article

0 Comments

Leave a Comment