২০১৯ সালে রিলিজ হওয়া এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেল একটি সাইবার পাংক সায়েন্স ফিকশন এ্যাকশন জেনরের মুভি। ১৯৯০ সালে জাপানি এনিমেতে ঝড় তোলা সিরিজ মান্জা থেকে প্রকাশিত ব্যাটেল এন্জেল এলিটার উপর ভিত্তি করে এ বছরই মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি তৈরী করা হয়।

এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেল মুভির পোস্টার ; Image Source: foxmovies.com

চলতি বছরে মুক্তি পেলেও মুভিটি তৈরীর ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ২০০৩ সালে। পরবর্তীতে জেমস ক্যামেরনের এ্যাভাটার মুভি সিরিজ প্রজেক্টের জন্য এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেলের নির্মানকাজ নিয়মিতভাবে পেছাতে থাকে।

অবশেষে ২০১৮ সালের শেষ ভাগে এসে মুক্তি পায় বহু প্রতিক্ষিত সায়েন্স ফিকশন জেনরের মুভিটি, আর সিনেমার শেষভাগের ঘটনা থেকে অনুমান করা যায়, এ কেবলই এক মহাকাব্যের শুরু, আরো আসছে ভবিষ্যতে।

কাহিনী সংক্ষেপ

২৫৬৩ সাল, সর্বনাশা এক প্রযুক্তি যুদ্ধ (যা দ্যা গ্রেট ওয়ার কিংবা দ্য ফল নামেও পরিচিত) আদিম পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ৩০০ বছর পর বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ করে নতুন এক পৃথিবী তৈরী করা হয়েছে যেখানে রোবট এবং সাইবর্গদের সংখ্যাই বেশি, স্বাভাবিক শরীর এবং মস্তিষ্কের মানুষ হয়ে গেছে বিরল, নিঃশেষের পথে।

এ্যালিটা ; Image Source: slashfilm.com

এমন এক সময় ড. ডাইসন ইডো একটি অকেজো সাইবর্গ বডি খুঁজে পান যেখানে একটি অব্যবহৃত কার্যকর মানব মস্তিষ্ক লাগানো ছিল। ইডো তার ল্যাবরেটরিতে নতুন একটি সাইবর্গ বডি তৈরী করে এবং তাতে মানব মস্তিষ্কটি যুক্ত করে।

এ্যাকশন দৃশ্যে এ্যালিটা ; Image Source: austinchronicle.com

যেহেতু সম্পূর্ণ অব্যবহৃত মানব মস্তিষ্ক, তাই সাইবর্গটি জেগে ওঠে পুরোপুরি স্মৃতিহীন শুন্য অবস্থায়। ইডো সাইবর্গটির নাম রাখেন এ্যালিটা, যা ছিল ইডোর মৃত মেয়ের নাম।

এই এ্যালিটাকে নিয়েই আমাদের গল্প, সিনেমার গল্প। এ্যালিটার বন্ধুত্ব হয় হুগোর সাথে, হুগোই তাকে মোটরবল রেসিং নামে এক রয়েল ব্যাটলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এটি মূলত সাইবর্গদের জন্য একটি গ্লাডিয়েটর ধরণের খেলা।

মোটরবল রেসিং গেম ; Image Source: boxofficebuz.com

হুগোর আরেকটি গোপন পরিচয় সে স্মাগলার, সে টাকার জন্য সাইবর্গদের পার্টস গোপনে চুরি করে ভিক্টরের কাছে বিক্রি করে।

এমন আরেকটি গোপন পরিচয় আছে এ্যালিটার সৃষ্টিকর্তা ইডোরও, সে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কাজ করে বাউন্টি হান্টার হিসেবে।

পরবর্তীতে এ্যালিটাও সে পথ অনুসরণ করে হয়ে ওঠে একজন দুর্দান্ত বাউন্টি হান্টার। তাকে হঠাতে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ক্রিমিনালরা। ধুন্ধুমার এ্যাকশন এবং সিনেমার পরবর্তী অংশের প্রায় প্রতি দৃশ্যের চমক নষ্ট করে দিতে চাই না বলেই পুরোটা বলে দেয়া যাচ্ছে না।

অভিনয়

এ্যালিটা দ্য ব্যাটল এন্জেল সিনেমাটির নাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোজা সালাজার । সাইবর্গ অর্থাৎ আধা মানুষ আধা রোবটের চরিত্রে রোজার অভিনয় ছিল প্রাণবন্ত পুরো সময় জুড়েই। একই সাথে এ্যাকশন এবং ইমোশনের মেলবন্ধন চমৎকার ভাবে সমন্বয় করেছে এ্যালিটা নামের চরিত্রটি।

প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন যারা ; Image Source: starpix

এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছে ক্রিস্টোফার ওয়ালটজ, জেনিফার কনেলি, মাহেরশালা আলি, এ্যাড স্ক্রেইন, জ্যাকি আর্লি হেলে, কিন জনসন, জর্জ ল্যান্ডেবর্গ জুনিয়র, লানা কন্ডর, ইন্ডারা ভিক্টর, জেফ ফাহেই,এইজা গনজালেস, ডেরেক মিয়ারস এবং লিওনার্দ ভো।

আরো বিভিন্ন চরিত্রে কিছু স্বল্প পরিচিত অভিনেতা অভিনেত্রীতের সমন্বয়ে সিনেমাটি হয়ে উঠেছে একটি সফল সায়েন্স ফিকশন।

চিত্রনাট্য

প্রতিটি মুভিতেই কোন না কোন দিক এ্যাসেট হিসেবে কাজ করে। কোন মুবিতে গল্প, কোন মুভির দূরদান্ত অভিনয়, কোন মুভির দূর্দান্ত পরিচালনা।

এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেল মুভিটির সকল দিক ঠিকঠাক পাওয়া গেলেও যদি এ্যাসেট ধরতে যাই, তাহলে অবশ্যই বলতে হবে চিত্রনাট্যের কথা। কমিকে থাকা চমৎকার সব গল্পের পরও কোন কোন মুভি একঘেয়ে হয়ে ওঠে সঠিক চিত্রনাট্য তৈরী করতে না পারায়।

চিত্রনাট্য লিখেছেন জেমস ক্যামেরন ; Image Source: hollywoodreporter.com

তবে এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেল মুভিটিতে এমন কিছু ঘটেনি কারণ এর পেছনে রয়েছে জেমস ক্যামেরনের মত একটি লিজেন্ডারি নাম। এ্যাভাটার মুভিরও আগে ক্যামেরন এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেল মুভির চিত্রনাট্যের কাজে হাত দিযেছিলেন যদিও শেষ অবধি এ্যাভাটারের জন্যই এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে পনেরো বছর।

ইউকিতো কিশিরোর লেখা কমিক সিরিজ ব্যাটেল এন্জেল এ্যালিটা থেকে স্ক্রিনপ্লে লেখার কাজে জেমস ক্যামেরনকে সহযোগিতা করেছেন লেইতা ক্যালগ্রেডিস।

পরিচালনা

রবার্ট রদ্রিগেজ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন।

মিউজিক

আবহ সঙ্গীতের দাযিত্বে ছিলেন টম হলকেনবর্গ।

সিনেমাটোগ্রাফি

এ্যালিটা ব্যাটেল এন্জেল মুভিটি দেখার সময় এর সিনেমাটোগ্রাফি আপনাকে মুগ্ধ করবেই, আর এই মুগ্ধতার কারিগর বিল পোপ।

রেটিং

আইএমডিবি রেটিং – ৭.৪

রোটেন টমেটো – ৬০%

মেটাক্রিটিক – ৫৩%

এ্যাওয়ার্ড

মুক্তির খুব বেশিদিন হয়নি বলেই হয়তো এখনো কোন এ্যাওয়ার্ড বাগাতে পারেনি এ্যালিটা ব্যাটের এন্জেল তবে ইতিমধ্যেই দুটো এ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পেয়ে গেছে।

কোথায় পাবেন মুভিটি

ক্রেজিএইচডির মতো টরেন্ট সাইটগুলোতে তো বটেই, ডিরেক্ট ডাউনলোডিং সাইট থেকেও ডাউনলোড করে দেখতে পারেন মুভিটির ব্ল রে প্রিন্ট। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই পরামর্শ থাকবে ভালো প্রিন্টে মুভিটি দেখবার, নাহলে চমৎকার গ্রাফিকস এবং ভিএফএক্সের কাজ মিস করে যাবেন কিন্তু।

কেন দেখবেন মুভিটি

জাপানি নিনজা সিরিজ যেমন বিখ্যাত বিশ্বজুড়েই, মান্জা সিরিজও জাপানে ভীষণ জনপ্রিয়। আর এ্যালিটার আগমনে বোঝা যাচ্ছে, এবার মান্জা সিরিজও জয় করতে চলেছে বিশ্ববাসীর মন, সৃষ্টি করতে যাচ্ছে নতুন এক উথ্বানের ইতিহাস।

আর যেখানে এ্যাভাটারের স্রষ্টা জেমস ক্যামেরনের মতো নাম জড়িয়ে আছে, সেখানে সিনেমাটি দেখার ব্যাপারে দ্বিতীয় চিন্তা মাথায় আনার প্রয়োজন পড়ে বলেই মনে হয় না।

সিনেমার প্রথম অংশে কৌতুহল আর শেষ অংশে একের পর এক চমক, সাথে আদিম পৃথিবীর ইতিহাস, বদলে যাওয়া আবার বদলে গিয়েও নস্টালজিয়া, সবকিছু মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আপনি ঘুরে আসতে পারেন অন্য এক জগতে।

Related Article

0 Comments

Leave a Comment